আজ টেলিটকের থ্রিজি সেবা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Sunday, October 14, 20120 comments


 দফায় দফায় সময় পরিবর্তন করে অবশেষে তৃতীয় প্রজন্মের থ্রিজি মোবাইল সেবা আজ রবিবার থেকে চালু হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক প্রযুক্তির এই সেবার উদ্বোধন করবেন। প্রথম দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল কোম্পানি টেলিটক ঢাকা মহানগরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় থ্রিজি সেবা দেবে। তবে সাধারণ গ্রাহকরা শুরুতেই এই সেবা পাচ্ছেন না।
Telitalk 3G.jpg
ইতিমধ্যেই যারা গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্য হয়েছেন তাদের সকলকেও শুরুর দিন থেকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। থ্রিজি সেবা প্রাপ্তির তালিকায় প্রথমেই নির্বাচন করা হয়েছে কর্পোরেট গ্রাহকদেরকে।
জানা গেছে, আজ রোববার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভিডিও কল করে থ্রিজির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেড় ঘণ্টা ব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। ওই অনুষ্ঠান গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে যারা থ্রিজি সেবা উপভোগ করছেন তারা মোবাইলফোনে সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, টেলিটক এখনো অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে দেশীয় ৫টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে লিংক তৈরির প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র। এসব বাস্তবায়ন করতে আরো ৬ থেকে ৮ মাস সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর লিংক শেয়ার, কনটেন্ট প্রোভাইডারদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়গুলোও সম্পন্ন না হওয়ায় আপাতত থ্রিজি দিয়ে স্যাটেলাইট টিভিতে সরাসরি খেলা দেখা আপাতত সম্ভব হবে না। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথম পর্যায়ে কর্পোরেট দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরই কেবল এই সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা ইতোমধ্যে গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্য হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে মাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা ব্যবহারকারীরা উদ্বোধনের পর থেকে এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
আর চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে থ্রিজি ব্যবহার করতে পারবেন সকল গ্রাহক। এছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ লাখ গ্রাহককে থ্রিজি সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। টেলিটক সূত্রে জানা গেছে, শুরতে ইন্টারনেট সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডেটা কানেক্টিভিটি (২ এমবিপিএস) নিয়ে কাজ করছে এবং কনটেন্টের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে। প্রাথমিকভাবে টেলিটকের থিজি নেটওয়ার্কে ডেটা কানেক্টিভিটির পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্স করা যাবে। এজন্য মোবাইলফোন সেট বা ল্যাপটপে বেশি মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকতে হবে। মোবাইলফোনে থ্রিজি ব্যবহার করে নাটক, গান বা মুভি দেখতে চাইলে উচ্চক্ষমতার ব্যাটারি প্রয়োজন। স্মার্টফোনেই উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি আছে। এ বিষয়টিও ব্যবহারকারীদের ভাবতে হবে। তা না হলে অল্প দিনের মধ্যেই মোবাইলফোন সেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির টেলিটকের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো তৈরি না করে সেবা চালু করার বিষয়টিকে গ্রাহক ধরার কৌশল হিসেবে দেখছে। ২১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (এক হাজার ৬শ ৮৮ কোটি টাকা) ব্যয়ে চীনা কোম্পানি সিএমইসি থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ করছে। সারাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজ করতে আরও এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে ঢাকায় নেটওয়ার্ক স্থাপনের বিষয়টি শেষ হয়েছে কিছুদিন আগেই। নেটওয়ার্ক কতটা কার্যকর হয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। থ্রিজি চালু হলে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি একটি বড় বিপ্লব ঘটবে। গ্রামের মানুষও শহরের মানুষের মতো ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন।
সূত্র জানিয়েছে, টেলিটক "এ লড়াই আপনার জন্য নয়" শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে ইতোমধ্যে চার লাখ গ্রাহকের জন্য থ্রিজি সেবা চালুর প্রস্ত্ততি নিয়েছে। ভ্যালিড গ্রাহক নির্বাচনের জন্য তিন মাসের প্যাকেজ অফারের আওতায় গ্রাভিটি ক্লাব নামের একটি বান্ডেল অফার দেয়। গত জুলাই মাস থেকে শুরু হয় এ অফার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামে থ্রিজি সেবা দেবে টেলিটক। পরিকল্পনা অনুযায়ী জানুয়ারিতে সিলেটেও এই সেবার বিস্তার করা হবে। তখন থ্রিজি নেটওয়ার্কে টেলিটকের আট লাখ গ্রাহক হবে।
চীনের দুটি কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ চুক্তিতে থ্রিজি প্রযুক্তি আমদানি করেছে টেলিটক। দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে থ্রিজি প্রযুক্তি চালু হলে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির আমূল পরিবর্তন ঘটবে। পুরো আগস্ট মাস থ্রিজি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে। থ্রিজির জন্য সারাদেশে ৭শ টি বিশেষ বিটিএস স্থাপন করা হবে। রাজধানীতে বিটিএস স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতিতে তথ্য পরিবহন সম্ভব হওয়ায় মোবাইল ফোনেই টিভি দেখা, জিপিএসের মাধ্যমে পথনির্দেশনা পাওয়া, উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেয়া সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, টেলিটকের জন্য ২১১০ থেকে ২১৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের (ফ্রিকোয়েন্সি) মধ্যে ১০ মেগাহার্টজ বরাদ্দ দিয়েছে বিটিআরসি। রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান বলেই টেলিটক অগ্রাধীকারভিত্তিতে লাইসেন্স পেয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি (লাইসেন্সের নিলাম) আগেই থ্রি-জি সেবা চালু করতে যাচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে থ্রি-জির নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। ওই নিলামে টেলিটকও অংশ নিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করবে।
Share this article :

Post a Comment

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. NETWORK - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger