ডাউনলোড করে ফেলুন কুকুর নিয়ে অনেক ইমোশনাল একটি মুভি।১০০% আপনার মুভিটা পছন্দ হবেই। রিভিউ+ডাউনলোড!!

Sunday, October 21, 20120 comments


hachiko poster big ডাউনলোড করে ফেলুন কুকুর নিয়ে অনেক ইমোশনাল একটি মুভি।১০০% আপনার মুভিটা পছন্দ হবেই। রিভিউ+ডাউনলোড!!

সাল ১৯২৪, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের প্রফেসর হিদেস্যাবুরো ইউইনো(Hidesaburō Ueno একটি কুকুর পোষেছিলেন। কুকুরটির নাম ছিল হাচিকো (Hachikō)। জাপানের শিবুয়া স্টেশনে (Shibuya Station) প্রতিদিন সকালে পালক প্রফেসরকে বিদায় জানাত হাচিকো। দিন শেষের নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে থাকত পালকের প্রত্যাবর্তনের পথ চেয়ে। তাদের এই সখ্যতা ১৯২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত চলে। তারপর একদিন প্রফেসর সেই যে গিয়েছিলেন আর ফিরে আসেননি। কারণ তিনি চলে গিয়েছিলেন না ফেরার দেশে। cerebral hemorrhage প্রফেসরকে কেড়ে নিয়ে গেলেও হাচিকোর বিশ্বস্থতা বেঁচেছিল তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। সে প্রতিদিন বসে থাকত প্রফেসরের জন্য। দিন চলে গিয়ে সপ্তাহ হয়েছে, সপ্তাহ মাসের হিসেব চুকিয়ে বছর হয়েছে। কত ঋতু এসেছে, কত চলে গেছে। কিন্তু বিরাম হয়নি হাচিকোর পথ চেয়ে থাকা। তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে পালিয়ে আসত সেই সময় হলেই।
স্টেশনে আসা যাওয়া করা যাত্রীরা যারা হাচিকোকে প্রফেসরের সাথে দেখেছে। হাচিকোর এমন আনুগত্যতা তারা অবাক হয়ে দেখেছে। নিবেদিতপ্রাণ এই কুকুরের জন্য তারা খাবারের ব্যবস্থা করেছে। হাচিকোকে নিয়ে খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আবেগে আপ্লুত মানুষ হাচিকোর সেবা-শ্রশ্রুষার জন্য সাহায্য পাঠিয়েছে। তাকে দেখতে এসেছে। ১৯৩২ সালে এমন এক নিবন্ধ হাচিকোকে জাপানের জাতীয় পরিচিতি এনে দেয়। হাচিকো হয়ে পড়ে জাপানের ন্যাশনাল সিম্বল অব লোয়ালিটি। আট মার্চ ১৯৩৫ হাচিকোও চলে যায় না ফেরার দেশে। পিছে রেখে যায় তার কীর্তি, মানুষের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্বের।
এপ্রিল ১৯৩৪, শিবুয়া স্টেশনে হাচিকোর আদলে একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপন করা হয় হাচিকোর সম্মানে। এ মূর্তির উদ্বোধনে হাচিকো নিজেও উপস্থিত ছিল। পরবর্তিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মূর্তিটি রিসাইকল্ড হয়। ১৯৪৮ সালে মূল শিল্পীর ছেলের উপর আবার দায়িত্ব দেওয়া হয় হাচিকোর মূর্তি নির্মানের। একই বছরের আগস্ট মাসে মূর্তিটির উদ্বোধন করা হয়, যা আজও বর্তমান। জাপানের ব্যস্ততম এই স্টেশনে হাচিকোর মূর্তির কাছাকাছি অংশের নাম “Hachikō-guchi” বা “The Hachikō Entrance/Exit”। এই অংশটি সবার কাছে বিখ্যাত এক মিলন-স্থান। হাচিকোর জন্মশহরের Ōdate Station-এও ২০০৪ সালে হাচিকোর মূর্তি স্থাপন করা হয়।
প্রতি বছর আট এপ্রিল জাপানের শিবুয়া স্টেশনে দিনটিকে হাচিকোর স্মরণে সম্মানিত করা হয়। শত শত মানুষ এই সলেম সিরিমনিতে তাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে হাচিকোর স্মৃতির প্রতি, তার লোয়ালিটির প্রতি।
হাচিকো কিভাবে মৃত্যুবরণ করেছিল- এবিষয়ে বিজ্ঞানীরা ওনেক বাক-বিতণ্ডার পরে ২০১১ সালে এসে একমত হয়েছেন। হাচিকোর ক্যান্সার হয়েছিল এবং ফাইলেরিয়া ইনফেকশন ছিল। তার পেটে চারটি yakitori স্টিক পাওয়া যায়, তবে এগুলো তার মৃত্যুর কারণ ছিল না। হাচিকোর দেহাবশেষ জাপানের ন্যাশনাল সাইন্স মিউজিয়ামে সরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
হাচিকোকে নিয়ে অনেক অনেক বই লেখা হয়েছে। ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে। ১৯৮৭ সালে হাচিকোর কাহিনী নিয়ে নির্মিত ছায়াছবিটি ছিল একটি ব্লকবাস্টার। ২০০৯ সালেও হাচিকোর কাহিনীতে একটি ছায়াছবি মুক্তি পেয়েছিল। হাচিকোর মৃত্যুর ৫৯ বছর পরে ১৯৯৪ সালের ২৮ মে, হাচিকোর রেকর্ডেড ‘ঘেউ ঘেউ’ শুনার জন্য কয়েক মিলিয়ন রেডিও শ্রোতা তাদের রেডিও অন করেছিল।
২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Hachiko- A Dog’s Story দেখতে পারেন। ছায়াছবিটি আমার কাছে একটি মাস্টারপিস মনে হয়েছে অভিনয়কারী কুকুরটির দুর্দান্ত অভিনয়ে। ছায়াছবিটির কাহিনীতে একটু রদবদল হয়েছে, তবে হাচিকোর কাহিনী একই রয়ে গেছে। আমি নিজেকে অনেক শক্ত একজন মানুষ হিসেবেই জানতাম, কিছু ছায়াছবিটি আমার চোখে বারবার পানি এনে দিয়েছিল।
মৃত্যুর মাতম থেমে যায় কয়েকটি দিন অতিবাহিত হলেই। মাইয়ুছির মেঘ কেটে স্বাভাবিক জীবনের রং-রূপ আসা শুরু হয়ে যায়। মৃত্যুর পরে চল্লিশ দিনও যেতে পারে না, নতুন জীবনের খুঁজে নেমে যেতে দেখা যায়। অথচ একটি কুকুর, তার পালকের মৃত্যুর পরেও দীর্ঘ নয় বছর অপেক্ষা করেছিল তার প্রত্যাবর্তনের। অবশেষে মহান এই কুকুরটিও হার মানে মৃত্যুর কাছে। পৃথিবীর মহামানবদের কাহিনী শুনি আমরা, আমার কাছে বিশ্বস্থ এই কুকুরটি মহাপুরুষদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, কারণ মানুষ মহান হবে এতে নতুন কিছু নেই- সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করে। যখন একটি ইতর প্রাণী শ্রেষ্ঠত্বে তাকে ছাড়িয়ে যায় তখন সেই প্রাণীটির প্রাপ্য সম্মানটুকু না দেওয়া মানবতারই অপমান। আমার কাছে পৃথিবীর সকল যুগের সকল শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ঐ মহান কুকুর, সে শ্রেষ্ঠ তার আনুগত্য ও বিশ্বস্থতায়।
ছোট থাকতে কষ্টের কোন মুভি দেখলে চোখে পানি চলে আসত। সে সময়ের কথা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়।কিন্তু এই মুভিটির শেষের দিকে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। একটি সত্য ঘটে যাওয়া প্রভু ভক্ত এক কুকুরের গল্প নিয়ে এই ছবিটি বানানো।মুনিব মরে যাওয়ার পরেও যতদিন সে বেঁচে ছিল ততদিন অপেক্ষা করেছে রেলস্টেশনে,কবে তার মুনিব ফিরবে আর সে একসাথে বাড়ি ফিরবে।এটি সত্যিকার ঘটনার আদলে করা মুভি।সত্যিকারের ঘটনাটি অনেক বছর আগে জাপান এ শিবুয়া স্টেশানের।আজও কুকুরের আদলে তৈরি করা একটি মুর্তি দারিয়ে আছে রেলস্টেশনের ধারে।
এই ছিল এক কীর্তিমান বিশ্বস্থ কুকুরের কাহিনী। আসুন, পাঠ শেষে আজকেও মহান হাচিকোর প্রতি আমরা সম্মান প্রদর্শন করি।

hachiko 7 ডাউনলোড করে ফেলুন কুকুর নিয়ে অনেক ইমোশনাল একটি মুভি।১০০% আপনার মুভিটা পছন্দ হবেই। রিভিউ+ডাউনলোড!!

তো চলুন দেরি না করে দুর্দান্ত এই মুভিটি ডাউনলোড করে ফেলিঃ

ডাউনলোড লিঙ্ক

ডাউনলোড করার জন্য আপনার ইউটরেন্ট সফটওয়্যার লাগবে। এই সফটওয়্যার ইনস্টল করা না থাকলে এখান থেকে করে নেন।
Share this article :

Post a Comment

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. NETWORK - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger