ব্রিটেনে নতুন ভাবে চলছে ইউকেবিএর কঠোর অভিযান ডাটা বেইজ এর মাধ্যমে খোজা হচ্ছে সকল ছাত্রদেরকে, ২০ ঘন্টার বেশি কাজ করার দায়ে অনেক বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেফতার৷ সতর্ক থাকুন ইউকেবিএ থেকে…

Monday, September 17, 20120 comments


310379_319290018168826_907192055_n
বৃটেনে অবস্থানরত অবৈধ ইমিগ্রান্টদের গ্রেফতারে কঠোর অভিযানের প্রস্তুতি ইউকেবি এর। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি ইমিগ্রান্টদের জন্য একটি আলাদা কম্পিউটার ডাটাবেইজ তৈরি করেছে। ইমিগ্রেশন অফিসাররা যাতে গ্রেফতার অভিযানে আরো বেশি করে সময় ব্যয় করতে পারেন সে জন্য ডাটাবেইজ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ভিসার মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য এর দায়িত্ব প্রাইভেট কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করা হবে।
গত ২২ আগষ্ট হোম অফিসের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
অন্যদিকে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গকারীদের গ্রেফতার অভিযান ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে লন্ডনের টেসকো সহ বিভিন্ন সুপার স্টোর ও ওয়ার হাউজ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার লোককে। তাদের বেশিভাগ ছিলেন ছাত্র যাদের অনেকের কাজের অনুমতি নেই অথবা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় কাজ করছেন। সম্প্রতি বৃটেনের অন্যতম রিটেইল শপ টেসকো থেকে ২০ জন ইমিগ্রান্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা ছিলেন ছাত্র এবং ভিসার শর্ত অমান্য করে ২০ ঘন্টার বেশি কাজ করছিলেন। ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থানে যেমন রেষ্টুরেন্ট, টেইকওয়েতে অভিযান চালিয়ে অবৈধদের গ্রেফতার করা হলেও টেসকোর মতো কোম্পানীতে অভিযানের ঘটনা এই প্রথম। ইউকেবিএ অফিসাররা বলেছেন কর্মী নিয়োগ ও তাদেরকে ২০ ঘন্টার বেশি কাজ দেয়ার উপযুক্ত তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে টেসকোকে ২০০ হাজার পাউন্ড জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। ২১ জুলাই শনিবার রাত ৩ টায় ইউকেবিএর অফিসাররা লন্ডনের ক্রয়ডনের একটি টেসকোকে অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করেন। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশী ও ইন্ডিয়ান ছিলেন। এদের মধ্যে ৭ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে।
ইউকেবিএর সাম্প্রতিক এক হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বৃটেনে ১৫০ হাজার অবৈধ ইমিগ্রান্ট অবস্থান করছেন। এদের অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখানে থেকে গেছেন, আবার অনেকে ভিসা বাড়ানোর আবেদন করে রিফিউজ হয়েছেন কিন্তু বৃটেন ত্যাগ করেননি। তাই এসব অবৈধ ইমিগ্রান্টদের এদেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্য ইউকেবিএ কঠোর অভিযানে নামবে। এতো বিপুল সংখ্যক অবৈধদের অবস্থান সম্পর্কে তাদের কোনো ধারনা নেই। তাই এদেরকে বিতাড়িত করতে বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি ডাটাবেইজ তৈরি করবে ইউকেবিএ। এটি তৈরি ও ব্যবস্থাপনার জন্য ইতিমধ্যে কয়েকটি সিকিউরিটি কোম্পানী টেন্ডার দাখিল করেছে। মিলিয়ন পাউন্ডের এই কাজের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে জিফোর এস দরপত্র দাখিল করেছে।
ইমিগ্রেশন অফিসাররা যাতে অবৈধদের গ্রেফতারে আরো বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন এজন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ ইমিগ্রান্ট ও ভিসার মেয়াদ শেষ হ্ওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা ইমিগ্রান্টদের সঠিক হিসাব রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বাইরে থেকে বৃটেনে আসা ও বৃটেন থেকে ছেড়ে য্ওায়া প্রতিটি ফ্লাইটের তথ্য যাচাই করা হবে। ইউকেবিএর হিসাব মতে প্রতিদিন কয়েকশ ইমিগ্রান্টের ভিসার মেয়াদ শেষ অথবা বাতিল হচ্ছে। এরা বৃটেন ত্যাগ করছে কিনা এটা উৎঘাটন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শুধু গত মাসে ভিসা রিফিউজ করার পর প্রায় ৪০% ইমিগ্রান্ট এদেশে অবৈধভাবে থেকে গেছেন। আর যাদের ভিসা শেষ হওয়ার পথে তাদের ৩ জনের ১ জন এদেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরা পুনরায় ভিসার জন্য আবেদনও করেন না। এদের বেশিরভাগ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, নাইজেরিয়ার নাগরিক।
ইমিগ্রেশন মিনিষ্টার ডেমিয়েন গ্রীণ বলেছেন, যে সব ইমিগ্রান্টদের ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে বা আবেদন রিফিউজ হয়েছে তাদের সবাইকে সর্তক করে চিঠি পাঠানো হবে। তারা যদি ২৮ দিনের মধ্যে বৃটেন ত্যাগ না করেন তাহলে তাদের গ্রেফতার করে ডিপোর্ট করা হবে। এছাড়া তারা ভবিষ্যতে আর বৃটেনে আসতে পারবেন না।
এদিকে ১৫০ হাজার অবৈধ ইমিগ্রান্টদের বাইরে আরো প্রায় ২৭৬ হাজার ইমিগ্রান্টদের আবেদন হোম অফিসে পড়ে আছে । যার সংখ্যা নিউক্যাসেলের অধিবাসীর সমপরিমাণ। এরমধ্যে কিছু আবেদন গত ৫ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। এর বাইরে ২১ হাজার এসাইলাম সিকার ও ৩০৯ হাজার বিদেশী সন্ত্রাসী বৃটেনে অবস্থান করছে।
Share this article :

Post a Comment

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. NETWORK - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger